আমার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি – Ehsan Rishat

আমার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি – Ehsan Rishat
Spread the love

যেভাবে শুরু – 

আমি কখনো খুব একটা ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম না আর আমার বড় ভাইদের দেখেছি জব পাওয়ার জন্য তারা কত কষ্ট করে।  যেহেতু আমার গ্রেড ভালো না তাই আমার মাথায় এইটাই কাজ করতো যে এই জব-টব হয়তো আমাকে দিয়ে হবে না । কিছু করতে হলে আমার আউট-অফ-দ্য-বক্স চিন্তা করতে হবে আর বিশ্ববিদ্যালয় লাইফে ভালো কিছু করতে হবে ।

শুরুটা হয় ২০১৫ এর শেষের দিকে যখন আমি একটু ঘাটাঘাটি করা শুরু করি যে কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করা যায়।  বলে রাখা ভালো তখন আমার আইডিয়া ও ছিল না অনলাইনে আয় করা যায় বা তেমন কিছু আসলেই বিদ্যমান কিনা । তো আমি সার্চ দিয়ে বসলাম ‘হাউ টু আর্ন মানি অনলাইন’ আর বেশকিছু ব্লগ আর ভিডিও দেখে ফেললাম।  হঠাৎ একদিন ইউটিউব চলাকালীন অবস্থায় একটা ভিডিও এড আসলো ‘Earn Money Online’ রিলেটেড ।আমিতো তখন এত কিছু বুঝিনা যে এড টার্গেটিং কিভাবে কাজ করে, তো এড এ ক্লিক করলাম আর ব্যস একটা পপ আপ ফর্ম আসলো ওখানে লেখা ছিল আমাকে ফ্রিতে অনলাইনে আর্ন করা শিখাবে।  আমি তো বেশ এক্সাইটেড হয়ে সাথে সাথে সাইনআপ করে ফেললাম আর ভিডিওগুলা দেখা শুরু করলাম।

কোর্সটা ছিল এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে এবং কোর্স ইনস্ট্রাক্টর বেশকিছু এফিলিয়েট ওয়েবসাইট এর সাথে পরিচয় করায় এবং পুরোটাই বুঝতে পারলাম এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে। কোর্সের শেষে উনি ওনার এই কোর্স যেটা আমি দেখতে ছিলাম ওইটা কিভাবে এফিলিয়েট করতে হবে তাও শিখালো কিন্তু প্রমোট করার রাস্তাটা ছিল পেইড বিজ্ঞাপন আর বলে রাখা ভাল আমার তখন কোন ক্রেডিট কার্ড ছিল না।

আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ

তো আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড ম্যানেজ করা আর আমরা সবাই জানি এইটা কতটা কঠিন, ব্যাংক আমাকে ক্রেডিট কার্ড দিবে না কারণ আমার ব্যবসা নেই কোন। তখন আমি ফেসবুকে একটা বিজ্ঞাপন দেখি আর এই কোম্পানি ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড সার্ভিস দেয় মানে আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের যা যা ডিটেইলস লাগে ওরা দিবে কিন্তু ভার্চুয়াল কার্ডের টাকা লোড করতে হবে ব্যাংকে গিয়ে ।

অ্যাড অনেক এক্সপেন্সিভ একটা জিনিস আর তখন আমার মাত্র একটা টিউশন ছাড়া আর্নিং সোর্স বলতে কিছুই নেই । প্রথম কিছুদিন এই ক্রেডিট কার্ড ইউজ করলাম কোন প্রবলেম হলো না।  কিন্তু হঠাৎ করে এই কোম্পানি গায়েব হয়ে গেল ফোন বা ওয়েবসাইট কোথাও তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। আমার কার্ডে তখন বেশ অনেক ডলার লোড করা ছিল। অনেক চেষ্টার পরেও যখন ওদেরকে পেলাম না। তখন আমি হাল ছেড়ে দিলাম এবং মাথায় এই চিন্তাই আসলো যে এই পুরো অনলাইন জগতটাই হয়তোবা ভুয়া। 

ফ্রিল্যান্সিং জার্নি

তখন এইটা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস, আমি রিক্সা করে টিউশনে যাচ্ছি তখন একটা বাসার নিচে একটা পোস্টার দেখি যে ‘ঘরে বসেই আয় করুন’ আর সাথে সাথেই পোস্টারের ছবি তুলে নিলাম এবং বাসায় গিয়ে ওদেরকে ফোন দিলাম, ওরা আমাকে বলল যে ওদের সাথে গিয়ে দেখা করতে এবং ওরা বলল আমাকে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ শেখাবে।  ক্লাস করা শুরু করলাম আর আমাদের দেখলাম লিড জেনারেশন (মানুষের ইমেইল বের করা) শিখাচ্ছে আমি ভাবলাম এটাই হয়তো ফ্রিল্যান্সিং- মানুষের ইমেইল বের করা।

কোর্স আমাদের শেষ হয় ঠিকই কিন্তু কোর্স করে দুর্ভাগ্যবশত ২/১ জনের বেশি কেউ ইনকাম করতে পারলো না।

আমার দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ

ওরা আমাকে আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয় কিন্তু এইটার জন্য ওরা ১০০০ টাকা নেয় এবং বলে যে বাংলাদেশ থেকে নাকি আপওয়ার্ক খোলা যায় না। আমিও বিশ্বাস করে বসলাম আর টাকাটা দিয়ে দিলাম কিন্তু এইটা একদম ভুয়া জিনিস তা বের করতে আমার বেশি দিন লাগলো না।  কিন্তু একটা জিনিস ভালো হয়েছে কোর্স টা করে যে আমি আপওয়ার্ক বলতে একটা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আছে জানতে পারলাম।

চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে কাজ পাওয়া নিয়ে, মাস দুয়েক হয়ে গেল অনেক চেষ্টার পরেও বিড (কাজের আবেদন) করে কাজ পাচ্ছি না কারণ এই মার্কেট টাই অনেক কম্পিটিটিভ এবং লিড জেনারেশন যেহেতু একটু সহজ কাজ তাই সবাই এইটা নিয়ে খুব আগে থেকে কাজ করে যার ফলে এই ক্যাটাগরি এর কাজ আরো কম্পিটিটিভ।

তিন মাস চেষ্টার পরে একটা কাজ পাই তাও খুব কম টাকার কিন্তু অনুভূতিটা ছিল অন্যরকম।  একটা কাজে ভালো ফিডব্যাক পাই আর তারপরের কাজ পেতে তেমন একটা কষ্ট করতে হয়নি।

আমার তৃতীয় চ্যালেঞ্জ

কিছুদিন কাজ করে বুঝতে পারলাম যে লিড জেনারেশন এর কাজ খুব বেশি কম্পিটিটিভ হয়ে যাচ্ছে। এই সেক্টরে এক বছর কাজ করে সরে আসলাম ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টরে। যেহেতু আমার ইংলিশ মোটামুটি ভালো তাই কোল্ড কলিং, কাস্টমার সাপোর্ট এর কাজ পেতে বেশি বেগ পেতে হয়নি আমার। আমি যদি আগেই এই সেক্টরে ঢুকতাম তাহলে হয়তো আরও ভালো করতে পারতাম। আর মজার বিষয় হলো এই সেক্টরের ক্লায়েন্টরা লং-টার্ম থাকে। আপনার জব হারানোর চিন্তা তেমন একটা করতে হয়না। আস্তে আস্তে আমার প্রোফাইল ভারী হতে শুরু করে আর আজকে চার বছর পর এখন আলহামদুলিল্লাহ আমার বিড করা লাগেনা ক্লায়েন্টরাই ইনভাইটেশন দেয়।

নতুনদের জন্য আমার সাজেশন-

  1. নিজের দক্ষতা বের করাটাও এক ধরনের দক্ষতা। আপনার এক্সিস্টিং কোন স্কিল আছে কিনা এইটা আগে আপনার বের করতে হবে।  তারপর এই স্কিলটা কোন ভাবে সেল করা যায় কিনা সেটা বের করতে হবে। যদি সেল করা না যায় তাহলে যেকোনো একটা কাজ শিখুন এবং ওইটাতে এক্সপার্ট হোন। মার্কেট এনালাইসিস করে দেখুন কোনটার কম্পিটিশন কেমন, কম কম্পিটিটিভ কিন্তু ভ্যালু বেশি এইসব টাইপের দক্ষতা ডেভলপ করা শিখুন। 
  • “লেগে থাকুন” আমি প্রথম ওই ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি এর কাছে ধরা খেয়ে যদি থেমে যেতাম তাহলে এত দূর আসতে পারতাম না। আপওয়ার্কে দুই মাস কাজ না পেয়ে বিড করা যদি বন্ধ করে দিতাম তাহলে এই পর্যন্ত আসা সম্ভব হতো না ।
  • “ইংলিশ শিখুন” আপনার স্কিল আছে কিন্তু আপনার এই স্কিল আপনার ক্লায়েন্টকে কিভাবে সাহায্য করবে এইটা যদি সুন্দর মত বোঝাতে না পারেন তাহলে আপনাকে ক্লাইন্ট হায়ার করবে না।
  • ফ্রিল্যান্সিং বাদেও অনলাইনে আরো অনেক ভাবে আয় করা যায় যদি মনে হয় ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য না তাহলে আপনার সার্চ দেওয়া উচিত “হাউ টু আর্ন মানি অনলাইন” এবং আরো রিসার্চ স্টার্ট করা উচিত। মনে রাখবেন আপনি কখনোই ভুল না করে নতুন কিছু শিখতে পারবেন না।

ধন্যবাদ 

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *