শরীরে চর্বি ঝরানোর বৈজ্ঞানিক পদ্বতি চলে এসেছে, কিভাবে ঝরাবেন চর্বি

শরীরে চর্বি ঝরানোর বৈজ্ঞানিক পদ্বতি চলে এসেছে, কিভাবে ঝরাবেন চর্বি
Spread the love

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি যে কোন মানুষের দৈহিক গঠনে অন্যতম একটি সমস্যা। তবে এবার সুখবর দিলেন বিজ্ঞানীরা। সম্পর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্বতিতে ঝরানো যাবে চর্বি। চর্বির সমস্যা নিয়ে অনকের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়। এই চর্বির সমস্যা বিশেষত শহুরে মানুষের। ফলে নির্দিষ্ট ডায়েটের খোঁজে থাকা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এই চর্বির সমস্যা থেকে বের হওয়ার পথ বের করে ফেলছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এমন একটি অণুর খোঁজ পেয়েছেন, যা চর্বি ঝড়াতে সহায়তা করে। এরই মধ্যে ইঁদুরের শরীরে অণুটি প্রয়োগ করে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এর সুবিধা হচ্ছে, দিনে কতটা খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে, তার ওপর এর ক্রিয়ার কোনো হেরফের হয় না। এমনকি এর কর্যকলাপের কারণে শরীরে বাড়তি কোনে তাপমাত্রাও সৃষ্টি হয় না।

অনলাইন গবেষণা পত্রিকা সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেধনে বলা হয়, স্থূলতা বা মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা এখন বিশ্বব্যাপী। সারা বিশ্বের ১৩ শতাংশ মানুষই এই সমস্যায় ভোগে। আর এই স্থূলতা হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগকে এটি জটিল করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব সায়েন্সের সেন্টার ফর ড্রাগ ডিসকোভারির ক্লিফ অ্যান্ড অ্যাগনেস লিলি ফ্যাকাল্টি ফেলো ও রসায়নের অধ্যাপকের ওয়েবষ্টার সান্তোসের নেতৃত্বে এই চর্বি ঝড়াবেন বৈজ্ঞানিক পদ্বতিটি সফলতার মুখ দেখেছে।

ওয়েবষ্টার সান্তোসের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের শরীরে বিশেষ এই অণুর প্রয়োগ করেন। বিএএম-১৫ নামের এই অণু শরীরে চর্বির পরিমাণ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ-সম্পর্কিত একটি গবেষণা নিবন্ধ ১৪ মে নেচার কমিউনিকেশনসে প্রকাশিত হয়েছে।

সাধারণভাবে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর ( পাওয়ার হাউস) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অ্যাডেনিন ট্রাই ফসফেট (এটিপি) উৎপাদনের জন্য কোষের পুষ্টি উপাদান পোড়ানোর পাশাপাশি মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই একটি প্রোটন মোটিভ ফোর্স (পিএমএফ) তৈরির প্রয়োজন পড়ে। এটিপি উৎপাদন প্রক্রিয়াটি অনেক জটিল হলেও সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কোষপ্রাচীরের সঙ্গে যুক্ত এটিপি সিনথেজের মধ্য দিয়ে প্রোটনের চলাচলের সময় মূলত এটিপি উৎপন্ন হয়।

এই একই সময়ে পুষ্টি উপাদানের জারিত হওয়ার (সাধারণভাবে পোড়ানো বলা হয়) ঘটনাটিও ঘটে। তাই যেকোনো কিছু পিএমএফের গতি কমাতে কাজ করা মানে তা শ্বসন প্রক্রিয়ার গতি বাড়ায়। আর শ্বসনের হার বৃদ্ধি মানেই হলো আগের চেয়ে বেশি চর্বি পুড়বে। ফলে কোনো বাড়তি ব্যায়াম ছাড়াই বেশি পরিমাণ ক্যালরি পোড়ানো যায়।

এটিপি উৎপাদনের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করলে, তা একই পরিমাণ এটিপি তৈরির জন্য বেশি জ্বালানি পোড়াতে শুরু করে। আর এই কাজটিই করে নতুন সন্ধান পাওয়া এই বিএএম-১৫ অণুটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

স্থূলতার চিকিৎসায় নানা ধরণের ওষুধের কথা এ যাবৎকালে বলা হলেও, এগুলো অনেকটা নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা মেনে চলার নীতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই অণুটির প্রয়োগ এমন হ্যাপা থেকে মুক্তি দেবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিএএম-১৫ অণুটি নিরাপদ। এতে কোনো প্রকার বিষক্রিয়ার ঝু্ঁকি নেই। এর আগে আবিষ্কৃত এ ধরণের অণুগুলোর মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে বিএএম-১৫ অণুটি বিজ্ঞান সম্মত। তাই আশা করা যাচ্ছে চর্বি ঝড়াতে এই পদ্বতিটি কার্যকর হবে।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *