পরিত্যক্ত প্লাস্টিক থেকে তৈরি হচ্ছে বহু ব্যবহৃত সুতো।

প্লাস্টিককে বলা হয় অপচনশীল দ্রব্য, তাই এটা মাটির সাথে মিশে না, বিধায় পরিবেশ দূষণের জন্য খুব বেশি দায়ী করা হয় এটাকে।প্রতিটা দেশের জন্য এই পরিত্যক্ত প্লাস্টিক একটা বিরাট মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য।প্রতি বছর যে পরিমাণ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা হয় দেশের নর্দমা, খাল ও নদীতে, এতে বিরাট পরিবেশ দূষণের সম্মুখিন হচ্ছে বাংলাদেশ।

কিছুদিন আগে ঢাকার তুরাগ নদীর একটা অংশ বন্ধ হয়ে চর জেগে উঠেছে। যেই চরে বালু বা মাটি নয় শুধু প্লাস্টিক আর কলকারখানার পরিত্যক্ত জিনিস দেখা গিয়েছে। তবে এত সব হুমকির মুখে ও আশার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছে শেরপুরে গড়ে উঠা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে ৩টি সুতোর কারখানা। ব্যতিক্রমী এই সুতোর তৈরি উদ্যোক্তা শেরপুরের “জাহিদ প্লাস্টিক “এর প্রবক্তা মো:আরশাদ আলী। তিনি জানান প্লাস্টিককে যখন সবাই ব্যবহার করে ফেলে দেয় তখন তিনি এই প্লাস্টিক কুঁড়িয়ে এনে সুতো তৈরির উপসর্গ হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রথমে কুঁড়িয়ে আনা প্লাস্টিক গুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে বিশেষায়িত প্লাস্টিক কাটার মেশিন দিয়ে ছোট ছোট করে কেটে ২ থেকে ৩দিন রোদে শুকিয়ে নেন। টুকরো করা প্লাস্টিক যখন ভালোভাবে শুকিয়ে যায়, তখন একেবারে শেষ পর্যায়ে এটাকে সুতো তৈরির মেশিনে ডুকিয়ে সুতোর রুপ দেওয়া হয় এবং সেটা পরিপক্ব সুতো হয়েই বের হয়।তাঁর মতে এই সুতো আমরা যে পাঠের সুতো ব্যবহার করি সেটার চাইতে কোনো অংশে কম নয় বরং প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি সুতো পঁচার কোনো ভয় নেই।

আরশাদ আলীর এই সুন্দর উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে শেরপুর জেলা প্রশাসক সব ধরণের সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি উৎসাহিত হয়ে শেরপুরে আরো ৩টি এই রকম সুতো তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। আর এই কারখানা গুলোতে কাজ করছে সেখানকার প্রায় ১০০ এর উপর মানুষ। তাই বলাই যায় যদি প্লাস্টিক এর দুষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে এই ধরণের আরশাদ আলীর মত উদ্ভাবনী চিন্তার মানুষদের সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে হবে। এতে দেশ যেমন লাভমান হবে তেমনি বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে দেশের হাজার ও বেকার জনগন, সাথে আমরা পাব আমাদের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ অর্জনের রাস্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *