সদর উপজেলার মস্তফাপুর গ্রামে দুই কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ শেষে হত্যার অভিযোগ করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ।
নিহতরা হলেন মস্তফাপুর গ্রামের বিল্লাল শিকদারের মেয়ে সুমাইয়া (১৬) এবং একই গ্রামের হাবিব খাঁর মেয়ে হ্যাপি (১৫)। তারা দুজনই মস্তফাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের রকিব (১৮) ও শিপন (১৬) নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ ।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে ওই দুই স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ৬ যুবক তাদের অচেতন অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এসময় ওই যুবকরা চিকিৎসদের জানান, দুই কিশোরী বিশ পান করেছে। এর কিছুক্ষণপরে হেপী নামে এক কিশোরী মারা গেলে ওরা পালিয়ে যায়। এ সময় ২ যুবককে আটক করা হয়।
পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, বেশ কিছুদিন থেকে একই এলাকার কামাল শিকদারের ছেলে রাকিব (১৮) এবং কুদ্দুস শিকদারের ছেলে শিপন দুই কিশোরীকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। এই ঘটনায় স্থানীয় মিন্টু মেম্বারের কাছে সালিশ দেয়া হয়েছিল। এই ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়।
সুমাইয়ার বাবা বেল্লাল শিকদার জানান, ওরা আমার মেয়েকে নষ্ট করে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম রাজিব জানান, বিকালে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই কিশোরীকে হাপাতালে ভর্তি করা হয়। সুমাইয়া নামে এক কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্লীলতাহানির পর বিষপানের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।