নিউজবাংলা: ২জুলাই, বৃহস্পতিবার:

ঢাকা: এবার সোনালী ব্যাংক থেকে সোয়া ৪ কোটি আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। আর এর সঙ্গে জড়িত আছেন খোদ ব্যাংকটির ম্যানেজারসহ একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

তাই ব্যাংকটির ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) মো. জাকির হোসেন, এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. মোশারেফ হোসেন এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অলিনিটিং ফেব্রিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিসেস আয়েশা আফরোজের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠানটি।
খুব শিগগিরই দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করবেন। দুদক সূত্র বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানায়, বৈদেশিক রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য কোনো রপ্তানিকারক পূর্ববর্তী দুই বছর কোনো পণ্য রপ্তানি করে প্রত্যাবাসনযোগ্য (ফেরত) রপ্তানিমূল্য সম্পূর্ণ প্রত্যাবাসন করতে সক্ষম হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বরাবর ডিসকাউন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারে। ওই ডিসকাউন্ট সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে সরকার রপ্তানিকারককে তার মোট রপ্তানিমূল্যের ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান করে থাকে। এই মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৈদেশি মূদ্রা নীতি বিভাগের সার্কুলার দেয়া হয়। সেই সার্কুলারে বলা আছে- কোনো রপ্তানিকারকে নগদ সহায়তা প্রদানের জন্য, তাদের আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে বিগত দুই বছরের বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত প্রত্যাবাসন রপ্তানিমূল্য হতে হবে, সেই সঙ্গে দুই বছরের অধিক হলে বা প্রত্যাবাসিত মূল্যের আংশিক অপ্রত্যাবাসিত হলে এই সুবিধা পাবে না।
কিন্তু রপ্তানিকারক অলি নিটিং ফেব্রিক্স লিমিটেডের মোট রপ্তানি মূল্যের ১০ শতাংশ অপ্রত্যাবাসিত ছিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ছিল না। আর এই অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি বিল থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির এমডি মিসেস আয়েশা আফরোজ সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে ডিসকাউন্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন। আর ওই ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও অবৈধ উপায়ে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য যৌথ স্বাক্ষর করে ওই রপ্তানিকারকের নামে ডিসকাউন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করেন। আর এই ভুয়া ডিসকাউন্ট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নগদ সহায়তা হিসেবে মোট ৪ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭৯০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে। যা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৈদেশি মূদ্রা নীতি বিভাগের সার্কুলার বা নির্দেশনার পুরোপুরি লঙ্ঘন।
দুদকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলামেইলকে জানান, এসব টাকা আত্মসাতের বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার করার জন্য কমিশন অনুমোদন দেয়। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব শিগগিরই দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা অনুযায়ী ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন- ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হবে। দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে সোনালী ব্যাংক থেকে লোপাট হয়েছে সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। হলমার্ক কেলেঙ্কারি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের গোমর ফাঁস হলেও পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির আরো বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের তথ্য বেরিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায়। শুধু রূপসী বাংলা শাখা নয়, অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির আরো বেশ কয়েকটি শাখায়।
সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখায় হলমার্কের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বাইরেও আরো ছয়টি শাখা থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যের নামে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বের করে নেয়া হয়। স্থানীয় কার্যালয়, বৈদেশিক বাণিজ্য করপোরেট শাখা মতিঝিল, সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখা, আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা, লালদীঘি করপোরেট শাখা চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখা, রাজশাহীর তানোর শাখা থেকে এসব অর্থ লোপাট হয়েছে। আর ব্যাংকটির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলার সংখ্যায় হবে প্রায় হাজার খানেকের বেশি। যেগুলোর অনেক মামলা এখনো তদন্তাধীন আছে, আবার অনেক মামলার চার্জশিট দাখিলের পর বিচারিক আদালতে ব্যাংকটির অনেক উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের শাস্তিও হয়েছে।

নিউজবাংলা/একে