নিউজবাংলা: ১৭ জুলাই, শুক্রবার :

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট চলছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে যানজটে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত তিনটা থেকে আজ শুক্রবার ১০ টা পর্যন্ত চন্দ্রায়ই যানজটে আটকে আছেন অনেক যাত্রী।

যানজটে আটকা ঠাকুরগাঁও গামী হানিফ পরিবহনের চালক আব্দুল মন্নাফ বলেন, গাবতলী থেকে বাস ছেড়েছিল গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায়। এরপরে গোটা রাস্তায় ছিল ছাড়া ছাড়া যানজট। রাত তিনটার দিকে গাড়িটি সাভারের নবীনগরের বড়াইবাড়ি এলাকায় এসে থেমে যায়। সেখানেই সকাল নয়টা পর্যন্ত তীব্র যানজট চলছে। তিনি বলেন, ‘গাড়ি আগায় না, পুরা রাস্তায় জ্যাম।’

ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী বাস শুভ বসুন্ধরার চালক মোহাম্মদ সোলেমান বলেন, তিনিও গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে গাবতলী থেকে বাস ছেড়েছিলেন। স্বাভাবিক নিয়মে বাস চললে আজ ভোর পাঁচটার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছার কথা। যানজটের কারণে সকাল আটটা পর্যন্ত চন্দ্রায়ই বসে আছেন।

 

তীব্র যানজটের কারণে স্থবির হয়ে আছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। মাঝে-মধ্যে গাড়ি চললেও তা চলছে ধীর গতিতে। বৃষ্টি আর কাদাপানিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। চালকেরা বলছেন, কাদাপানিতে সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় গাড়ি ধীর গতিতে চালাতে হচ্ছে।

 

গরমে অতিষ্ঠ অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে এখানে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। পোশাকশ্রমিক আবু যাবেন গাইবান্ধায়। যানজটে হতাশ তিনি। বললেন, ‘ঈদের পরদিন চইলা আসতে হইব। রাস্তায়ই যদি একদিন থাকা লাগে তাহলে কখন যামু আর কখন আসমু।’

 

লালমনিরহাটে যাবেন সৌরভ। যানজটে ক্ষুব্ধ তিনি। বললেন, ‘ঈদের আগে সড়কমন্ত্রী বলেছিলেন মহাসড়কে যানজট থাকবে না। কই তাঁর কথা তো সত্যি হলো না।’

 

মহাসড়কে ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছে নিম্ন আয়ের মানুষ। ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি ট্রাকের চালক মোহাম্মদ রুবেল বলেন, তিনি আশুলিয়া থেকে রাজশাহী যাচ্ছেন। এই ট্রাকে তিনি ৫০-৬০ জন যাত্রী তোলেন। বললেন, ‘গরিব মানুষের টিকিট কাটার টাকা নাই। তাই ট্রাকে তুলছি। যার কাছে যেমন পাইছিনিছি।’

 

ট্রাকের বেশিরভাগ যাত্রীই পোশাকশ্রমিক ও দিনমজুর। ট্রাকের যাত্রী গোলাপ আলী মিরপুরে শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বললেন, ‘বাসের টিকিটের অনেক দাম তাই ট্রাকে করে যাচ্ছি।’

 

 

নিউজবাংলা/একে